মৃত্যু কামনার বৈধতা কী? মৃত্যু কামনার বৈধতা কী এ সম্পর্কে জানতে চান? ইসলামে জীবন এক মহান নিয়ামত, যার প্রতিটি মুহূর্ত পরীক্ষা ও ইবাদতের সুযোগ। তাই হতাশা, দুঃখ কিংবা কষ্টের সময় মৃত্যুর কামনা করা ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। রাসূল (সা.) আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন। যদি কেউ কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে যায়, তবে সে যেন মৃত্যুর প্রার্থনা না করে।
বরং বলেঃ “হে আল্লাহ, যদি জীবনের মধ্যে আমার জন্য কল্যাণ থাকে তবে আমাকে জীবিত রাখুন, আর যদি মৃত্যুই উত্তম হয় তবে আমাকে মৃত্যু দিন।” (সহিহ বুখারি)। এই দোয়ায় জীবনের প্রতি সম্মান ও আল্লাহর হিকমতের উপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ পায়। আজকের আর্টিকেল এ জানবো মৃত্যু কামনার বৈধতা কী?
মৃত্যু কামনার বৈধতা কী?
মানুষ যখন জীবনের চরম সংকটে পড়ে রাগ, ক্ষোভ, দুঃখ, হতাশা, নিঃস্বতা কিংবা প্রিয়জন হারানোর বেদনাতেই হোক। তখন অনেকেই নিজের মৃত্যু কামনা করে বসে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এই মনোভাব আত্মসমর্পণ নয় বরং ধৈর্যের পরীক্ষা। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন এমন প্রার্থনা করা থেকে, কারণ মুমিনের জীবন যতদিন থাকে, তা তার জন্য নেকি অর্জনের সুযোগ। হাদিসে এসেছে, “কোনো বিপদে পড়ে মৃত্যু কামনা করো না।
যদি করতেই হয় তবে বলো, ‘হে আল্লাহ! যদি জীবন আমার জন্য কল্যাণকর হয় তবে আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন, আর যদি মৃত্যু উত্তম হয় তবে মৃত্যু দান করুন’” (বুখারি ও মুসলিম)। তবে ব্যতিক্রমও আছে। যদি কোনো ব্যক্তি ভয় করে যে, কোনো ভয়ানক ফিতনা বা বিশ্বাসের বিপর্যয়ের মধ্যে পতিত হবে, তখন মৃত্যুর প্রার্থনা বৈধ হতে পারে। যেমনঃ রাসুল (সা.) দোয়ায় বলতেন, “হে আল্লাহ! যখন ফিতনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তখন আমাকে নিজের কাছে তুলে নিন”। সাহাবিরাও এমন দোয়া করতেন।
হজরত ওমর (রা.) বলতেন, “হে আল্লাহ! আমার শক্তি ফুরিয়ে গেছে, বয়স বেড়েছে। তবে যেন কারো হক নষ্ট না করে আপনি আমাকে ডেকে নিন।” এই দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের শেখায় যে মুসলমানের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির সুযোগ। তাই কষ্টে ভেঙে না পড়ে ধৈর্য ধরা, দোয়া করা ও আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকাই একজন প্রকৃত মুমিনের পথ।
মৃত্যু কামনার ধরন
একজন মুমিনের মৃত্যুর প্রার্থনা হওয়া উচিত বিনয় ও ঈমান দীপ্ত আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ। যেমনটি হজরত ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর দরবারে করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন: "হে আমার পালনকর্তা! তুমি আমাকে ইসলামের অবস্থায় মৃত্যু দাও এবং নেককারদের সঙ্গে মিলিত করো।" (সুরা ইউসুফ: ১০১)। এই দোয়া শুধু মৃত্যুর আবেদন নয়। বরং জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঈমানের ওপর স্থির থাকার এক গভীর আকুতি।
মুসলিম হিসেবে আমাদের উচিত, কোনো কষ্ট বা বিপদে পড়ে হঠাৎ আবেগে মৃত্যুর প্রার্থনা না করা। বরং আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা যেন তিনি আমাদের মৃত্যু দেন ইসলামের ছায়ায়, ঈমানের সঙ্গে এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ প্রকৃত সফলতা শুধু দুনিয়ার আরাম আয়েশে নয়। বরং ঈমানের সঙ্গে সুন্দরভাবে ইহকাল ত্যাগে নিহিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এমন ঈমানদার মৃত্যুর তাওফিক দিন, যেন মৃত্যুর সময় আমরা তাঁর প্রিয় বান্দাদের কাতারে স্থান পাই। আমিন।