বাইনারি কোডেড ডেসিমেল (BCD)

বাইনারি কোডেড ডেসিমেল (BCD) হলো ডিজিটাল ইলেকট্রনিকস ও কম্পিউটার আর্কিটেকচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো বাইনারি কোডেড ডেসিমেল (BCD)। এটি এমন একটি কোডিং সিস্টেম, যার মাধ্যমে দশমিক সংখ্যার (Decimal Number) প্রতিটি ডিজিটকে আলাদা আলাদা বাইনারি ফর্মে প্রকাশ করা হয়।

কম্পিউটার সাধারণত Binary বা Base-2 সিস্টেমে কাজ করলেও, মানুষের জন্য পড়ার উপযোগী ডিজিটাল ডিসপ্লে, ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল ঘড়ি বা মাইক্রোকন্ট্রোলার-ভিত্তিক ডিভাইসগুলোতে দশমিক সংখ্যাকে সহজে প্রদর্শন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে BCD কোডিং।

এই আর্টিকেলে আমরা জানতে পারব BCD কী, কীভাবে কাজ করে, তার প্রকারভেদ, সুবিধা-অসুবিধা, বাস্তব জীবনে BCD-এর প্রয়োগ, BCD অ্যারিথমেটিক, সার্কিট ডিজাইন, কনভার্শন পদ্ধতিসহ আরও অনেক আলোচনা।

BCD কী? (What is BCD?)

বাইনারি কোডেড ডেসিমেল (BCD) হলো এমন একটি সংখ্যা কোডিং পদ্ধতি যেখানে দশমিক সংখ্যার প্রতিটি ডিজিটকে ৪-বিটের বাইনারি সংখ্যায় এনকোড করা হয়।
উদাহরণ:
দশমিক 59 সংখ্যাটিকে BCD-তে প্রকাশ করা হবে:

  • 5 → 0101

  • 9 → 1001

অর্থাৎ BCD রূপ:
0101 1001

এখানে লক্ষ্য করুন, পুরো সংখ্যাটিকে একসাথে বাইনারিতে রূপান্তর না করে, প্রতিটি ডিজিটকে আলাদা আলাদা ভাবে ৪-বিটে প্রকাশ করা হয়েছে। এটাই BCD-এর মূল বৈশিষ্ট্য।

কেন BCD প্রয়োজন?

যদিও কম্পিউটার বাইনারিতে গণনা করতে পারে, তবুও মানুষের ব্যবহারের অনেক ডিভাইসে “দশমিক সংখ্যা সিস্টেমে” প্রদর্শন প্রয়োজন হয়।
যেমন:

  • ক্যালকুলেটর

  • ডিজিটাল ঘড়ি

  • মাইক্রোপ্রসেসর ভিত্তিক কন্ট্রোলার

  • ইলেকট্রনিক মিটার

  • এলিভেটর ডিসপ্লে

  • POS মেশিন

  • ফিনান্সিয়াল সিস্টেম

যখন আমরা দশমিক সংখ্যা প্রদর্শন করতে চাই, তখন BCD হল সবচেয়ে সহজ এবং দ্রুত কনভার্টিবল পদ্ধতি।

BCD কীভাবে কাজ করে? (How BCD Works)

BCD-তে দশমিক 0 থেকে 9 পর্যন্ত প্রতিটি ডিজিটের জন্য ৪-বিট বাইনারি বরাদ্দ।

BCD টেবিল (0–9)

DecimalBCD (Binary)
00000
10001
20010
30011
40100
50101
60110
70111
81000
91001

এখানে ১০–১৫ পর্যন্ত কোন কোড নেই কারণ দশমিক সংখ্যা ০–৯ পর্যন্তই।

উদাহরণ

দশমিক 275 সংখ্যার BCD:

  • 2 → 0010

  • 7 → 0111

  • 5 → 0101

সুতরাং BCD = 0010 0111 0101

BCD-এর প্রকারভেদ – (Types of BCD)

BCD আসলে বিভিন্নভাবে এনকোড করা যায়। এর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টাইপ হলো:

(1) Unpacked BCD

এখানে প্রতিটি ডিজিট আলাদা ৪-বিটে সংরক্ষণ করা হয়
যেমন 39 → 0011 1001

(2) Packed BCD

একটি Byte-এ দুইটি Decimal Digit প্যাক করা হয়
যেমন:
39 → 00111001 (একটি বাইট)

(3) Zoned BCD

মেইনফ্রেম কম্পিউটারে ব্যবহৃত ফরম্যাট যেখানে হাই-নিবল একটি “জোন” হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

(4) 8421 BCD

সবচেয়ে জনপ্রিয় BCD ফরম্যাট, এখানে ওয়েট (8,4,2,1)

(5) Excess-3 BCD

প্রতিটি ডিজিটের সাথে 3 যোগ করা হয়।

(6) Gray-coded BCD

এরর মিনিমাইজেশনের জন্য ব্যবহৃত।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হলো 8421 BCD

BCD এবং সাধারণ বাইনারির মধ্যে পার্থক্য

বিষয়BCDPure Binary
রূপান্তরপ্রতি ডিজিট আলাদাপুরো সংখ্যাকে সরাসরি ট্রান্সফর্ম
স্টোরেজবেশি জায়গা লাগেকম জায়গা লাগে
গণনাতুলনামূলক ধীরদ্রুত
ব্যবহারDisplay devices, Digital clocksকম্পিউটার গণনা

উদাহরণ:

দশমিক 59

  • Binary = 00111011

  • BCD = 0101 1001

এ দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন।

কেন BCD-তে বেশি মেমরি লাগে?

কারণ, BCD প্রতিটি ডিজিটকে ৪-বিট ব্যবহার করে।
যেমন 99 → BCD = 1001 1001 → মোট ৮-বিট
কিন্তু Binary 99 → 1100011 → মাত্র 7-bit

তাই BCD মেমরি বেশি দখল করে।

BCD এর সুবিধা ও অসুবিধা

BCD-এর সুবিধা

1. Human-readable ডিসপ্লের জন্য উপযোগী

মাইক্রোকন্ট্রোলার ও ডিসপ্লেতে Decimal প্রদর্শনে BCD (Binary-Coded Decimal) খুবই কার্যকর ভূমিকা পালন করে। কারণ BCD প্রতিটি দশমিক অঙ্ককে আলাদাভাবে চার-বিটের মাধ্যমে সংরক্ষণ করে, ফলে মাইক্রোকন্ট্রোলার সহজেই এই মানগুলোকে সরাসরি ডিসপ্লে ইউনিটে পাঠাতে পারে। এর ফলে অতিরিক্ত জটিল রূপান্তর বা গণনার প্রয়োজন পড়ে না, এবং ডিসপ্লেতে সংখ্যা দ্রুত ও নির্ভুলভাবে প্রদর্শিত হয়। বিশেষ করে ঘড়ি, ক্যালকুলেটর বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে যেখানে ব্যবহারকারীকে সঠিক দশমিক সংখ্যা দেখানো প্রয়োজন, সেখানে BCD একটি সুবিধাজনক এবং কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

2. Decimal Arithmetic সহজ

ফিনান্সিয়াল ক্যালকুলেটরে দশমিক সংখ্যার হিসাব BCD (Binary-Coded Decimal) পদ্ধতিতে করা অনেক সহজ ও নির্ভুল হয়। কারণ BCD প্রতিটি দশমিক অঙ্ককে আলাদা চার-বিটের গ্রুপে সংরক্ষণ করে, ফলে দশমিক ভগ্নাংশ এবং সম্পূর্ণ সংখ্যার মান ঠিক যেমনটি রয়েছে, তেমনভাবে রাখা যায়। এটি রাউন্ডিং বা precision error কমিয়ে আনে, যা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যেমন ব্যাংকিং, হিসাবরক্ষণ, বা লেনদেনের ক্ষেত্রে, যেখানে ছোটতম ত্রুটিও বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই ফিনান্সিয়াল ক্যালকুলেটরে BCD ব্যবহার করলে দশমিক ভিত্তিক গণনা দ্রুত, নির্ভুল এবং সহজ হয়।

3. কনভার্ট করা সহজ

Binary → Decimal → Display রূপান্তর প্রক্রিয়া সাধারণত খুব দ্রুত সম্পন্ন হয়, কারণ কম্পিউটার অভ্যন্তরীণভাবে বাইনারি ব্যবহার করলেও মানুষের জন্য মান প্রদর্শনের সময় তা দ্রুত দশমিক রূপে রূপান্তর করতে পারে। আধুনিক প্রসেসর ও অ্যালগরিদমগুলো এই রূপান্তরকে অত্যন্ত অপটিমাইজডভাবে সম্পন্ন করে, ফলে ইনপুট, গণনা এবং আউটপুট প্রদর্শনের মাঝে কোনো উল্লেখযোগ্য বিলম্ব দেখা যায় না। বিশেষ করে সাধারণ পূর্ণসংখ্যা বা ফ্লোটিং পয়েন্ট মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার উভয় স্তরে কার্যকর রূপান্তর ব্যবস্থার কারণে Binary → Decimal → Display ধাপগুলো প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে সম্পন্ন হয়।

4. কোনো রাউন্ডিং এরর নেই

যেমন pure binary floating point প্রতিনিধিত্বে যেসব precision error দেখা যায়, BCD (Binary-Coded Decimal)-তে সেগুলো সাধারণত হয় না। কারণ বাইনারি ফ্লোটিং পয়েন্টে অনেক দশমিক ভগ্নাংশ সঠিকভাবে বাইনারিতে প্রকাশ করা যায় না—তাদের আনুমানিক মান সংরক্ষণ করতে হয়, ফলে রাউন্ডিং বা সূক্ষ্ম ভুল (precision loss) তৈরি হয়। অন্যদিকে BCD প্রতিটি দশমিক অঙ্ককে পৃথকভাবে চার বিটে সংরক্ষণ করে, ফলে দশমিক ভগ্নাংশ ঠিক যেভাবে আছে সেভাবেই থাকে।

কোনো আনুমানিকতার প্রয়োজন হয় না। এই কারণে অর্থনীতি, হিসাবরক্ষণ বা যেখানে সঠিক দশমিক মান খুব গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে BCD একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

BCD-এর অসুবিধা

1. মেমরি বেশি লাগে

একই সংখ্যাকে প্রকাশ করতে সাধারণত বাইনারি (Binary) পদ্ধতিতে ২০–৩০% বেশি বিট লাগে। কারণ বাইনারি সংখ্যা শুধুমাত্র দুইটি অঙ্ক ০ এবং ১ ব্যবহার করে, ফলে একই মান প্রকাশ করতে তুলনামূলকভাবে বেশি স্থানের প্রয়োজন হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি দশমিক সংখ্যা যেটি মাত্র ৩–৪টি অঙ্কে প্রকাশ করা যায়, সেটিকে বাইনারিতে রূপান্তর করলে অনেক সময় দ্বিগুণ বা তার কাছাকাছি সংখ্যক বিট প্রয়োজন হয়।

এ কারণে ডেটা সংরক্ষণ বা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে বাইনারি প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে কম্প্যাক্ট নয়, যদিও কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে এটি সবচেয়ে কার্যকর ও মৌলিক পদ্ধতি।

2. গণনা ধীর

BCD Addition বা Subtraction সম্পাদন করার সময় সাধারণ binary arithmetic-এর তুলনায় অতিরিক্ত কনভার্ট বা সংশোধন প্রয়োজন হয়, কারণ BCD কেবলমাত্র ০ থেকে ৯ পর্যন্ত বৈধ বাইনারি কোড গ্রহণ করে। যখন দুটি BCD ডিজিট যোগ বা বিয়োগ করা হয়, তখন মধ্যবর্তী ফলাফল অনেক সময়ই এই সীমা অতিক্রম করে ১০–১৫ এর মতো অবৈধ বাইনারি মান তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ফলাফলকে আবার বৈধ BCD-তে রূপান্তর করতে অতিরিক্ত Adjustment প্রক্রিয়া প্রয়োগ করতে হয়।

বিশেষত ৬ (0110) যোগ বা বিয়োগ করে মানটিকে সঠিক দশমিক পরিসরে ফিরিয়ে আনা হয়। এই কারণে BCD arithmetic দেখতে সহজ হলেও Binary arithmetic-এর তুলনায় ধাপ বেশি লাগে এবং প্রতিটি ফলাফলকে বৈধ BCD ফরম্যাটে রাখার জন্য আলাদা Conversion অপরিহার্য হয়ে ওঠে।

3. বড় ডেটা প্রসেসিং-এ অদক্ষ

Scientific computation বা আধুনিক AI মডেলের গণনায় BCD সাধারণত ব্যবহৃত হয় না, কারণ এসব ক্ষেত্রে অত্যন্ত বড় ডেটাসেট, জটিল গাণিতিক অপারেশন এবং উচ্চ গতির প্রসেসিং প্রয়োজন হয়, যা BCD ফরম্যাটে করা না শুধু ধীর বরং অপ্রয়োজনীয়ভাবে বেশি মেমরি-সাশ্রয়ী নয়। BCD প্রতিটি দশমিক ডিজিটকে আলাদা ৪-বিট কোডে প্রকাশ করে, ফলে বৃহৎ সংখ্যার ক্ষেত্রে এটি প্রচুর বিট ব্যবহার করে। যা floating point arithmetic বা binary-based computation এর তুলনায় অনেক কম কার্যকর।

এছাড়া AI মডেলে ম্যাট্রিক্স মাল্টিপ্লিকেশন, ভেক্টর গণনা, probability computation এবং উচ্চমাত্রার numerical optimization হয়ে থাকে, যেগুলো binary floating-point ইউনিটে অত্যন্ত দ্রুত সম্পন্ন করা যায়, কিন্তু BCD-তে সেগুলোর গতি মারাত্মকভাবে কমে যায়। তাই কর্মদক্ষতা, গতি এবং হার্ডওয়্যার অপ্টিমাইজেশনের দিক থেকে বিবেচনা করলে scientific ও AI computation-এ BCD কোনোভাবেই উপযোগী নয়।

BCD Arithmetic (যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ)

BCD Addition

দুটি BCD ডিজিট যোগ করলে যদি ফল ≥ 10 হয়, তাহলে 6 (0110) যোগ করতে হয়।

কেন?

কারণ BCD-তে 1010 (10)–1111 (15) অবৈধ কোড।
তাই Decimal 10–15 মান সংশোধন করতে 6 যোগ করে পরবর্তী ডিজিটে Carry পাঠানো হয়।

উদাহরণ

BCD: 1001 (9) + 0101 (5)

Binary যোগ → 1110 (14) = Invalid BCD
সংশোধন: 1110 + 0110 = 1 0100

ফল: 0001 0100 → 14

BCD Subtraction

BCD Subtraction মূলত Binary subtraction-এর মতোই সম্পন্ন করা হয়, তবে এখানে একটি অতিরিক্ত বিষয় খেয়াল রাখতে হয়। কোনো ডিজিটে Borrow বা ধার নিলে সেটিকে বৈধ BCD রেঞ্জে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ সংশোধন প্রয়োজন হয়। কারণ BCD কেবল ০–৯ পর্যন্ত দশমিক মানের বৈধ ৪-বিট কোড গ্রহণ করে, আর Borrow নেওয়ার সময় মধ্যবর্তী ফল অনেক সময়ই এই সীমা অতিক্রম করে অবৈধ BCD তৈরি করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণত ৬ (0110) যোগ করে মানটিকে বৈধ BCD কোডে রূপান্তর করা হয় এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী উচ্চতর ডিজিটে Borrow সমন্বয় করা হয়।

ফলে প্রতিটি ধাপে Binary নিয়ম অনুসরণ করা হলেও BCD-র বৈধতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত Adjustment বা Correction অপরিহার্য হয়ে উঠে। এই কারণেই BCD subtraction দেখতে সহজ হলেও এর সঠিক বাস্তবায়নে সতর্কতা প্রয়োজন।

BCD Multiplication

BCD Multiplication বা গুণ করার ক্ষেত্রে প্রতিটি দশমিক ডিজিটকে আলাদা আলাদা করে গুণ করতে হয়, কারণ BCD পদ্ধতিতে প্রতিটি ডিজিট স্বতন্ত্রভাবে ৪-বিট বাইনারি কোডে প্রকাশিত থাকে। ফলে পুরো সংখ্যাটিকে একসাথে গুণ করার পরিবর্তে, প্রথমে প্রতিটি ডিজিটের গুণফল বের করা হয় এবং তারপর সেই আংশিক ফলাফলগুলোকে সঠিক পজিশনে যোগ করে চূড়ান্ত উত্তর নির্ধারণ করা হয়। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো শেষে ফলাফলকে BCD-র বৈধ ০–৯ সীমার মধ্যে আনার জন্য Adjust বা Correction করা।

কারণ কোনো মধ্যবর্তী গণনার ফল ৯-এর বেশি হলে সেটি অবৈধ BCD হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সাধারণত ৬ (0110) যোগ করে মানটিকে বৈধ BCD-তে ফিরিয়ে আনা হয় এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী ডিজিটে Carry পাঠানো হয়। এই Adjust প্রক্রিয়াটিই BCD Multiplication-কে সঠিক ও নির্ভুল করে তোলে।

BCD Division

BCD Division সাধারণত দুটি পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়—Repeated Subtraction এবং Binary Division + BCD Conversion। Repeated subtraction পদ্ধতিতে বিভাজ্য সংখ্যাটি বিভাজকের দ্বারা বারবার বিয়োগ করা হয় যতক্ষণ পর্যন্ত বিয়োগ করা সম্ভব হয়, এবং বিয়োগের মোট সংখ্যাই ভাগফল হিসেবে গণ্য হয়। অন্যদিকে, Binary division + BCD conversion পদ্ধতিতে প্রথমে সংখ্যাগুলোকে সাধারণ বাইনারি ফরম্যাটে ভাগ করা হয় এবং ফলাফলকে পুনরায় BCD-তে রূপান্তর করা হয়, যা তুলনামূলকভাবে দ্রুত এবং গণনাগতভাবে দক্ষ।

মাইক্রোকন্ট্রোলারভিত্তিক সিস্টেমগুলোতে এই কাজগুলো আরও সহজ করে তোলে কারণ অনেক মাইক্রোকন্ট্রোলারেই বিল্ট-ইন BCD Instruction বা অপকোড থাকে, যা সরাসরি BCD সংখ্যার উপর গাণিতিক অপারেশন সম্পাদন করতে সক্ষম। ফলে হার্ডওয়্যার স্তরেই BCD গণনা দ্রুত, নির্ভুল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করা যায়।

Binary এবং BCD Conversion

Decimal → BCD Conversion

প্রতিটি ডিজিটকে আলাদা করে ৪-বিটে রূপান্তর করুন।

উদাহরণ

Number: 572

  • 5 → 0101

  • 7 → 0111

  • 2 → 0010
    Result → 0101 0111 0010

BCD → Decimal Conversion

BCD থেকে Decimal-এ রূপান্তর করার সময় প্রথম ধাপ হলো প্রদত্ত বাইনারি কোডটিকে ৪ বিটের আলাদা আলাদা গ্রুপে ভাগ করা। কারণ BCD পদ্ধতিতে প্রতিটি দশমিক ডিজিটকে স্বাধীনভাবে ৪ বিট বাইনারি কোডের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। ধরুন কোনো BCD সংখ্যাটি দীর্ঘ বাইনারি স্ট্রিং হিসেবে দেওয়া আছে। তাহলে সেটিকে বাম দিক থেকে শুরু করে প্রতি চার বিট করে পৃথক করতে হবে। প্রতিটি ৪-বিট গ্রুপ একটি দশমিক সংখ্যাকে উপস্থাপন করে। গ্রুপগুলো আলাদা করার পর প্রতিটি গ্রুপকে তার সমতুল্য দশমিক মানে রূপান্তর করতে হয়, ইহাকেই Decimal mapping বলা হয়।

উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ৪-বিট গ্রুপ হয় 0101, তবে তা দশমিক 5 নির্দেশ করে, আবার 1001 মানে 9। এভাবে প্রতিটি গ্রুপের decimal map করলে সম্পূর্ণ BCD সংখ্যাটির আসল দশমিক মান পাওয়া যায়। এই পদ্ধতিটি খুবই সহজ, কারণ BCD সবসময় শুধুমাত্র 0–9 ডিজিটগুলোকেই উপস্থাপন করে এবং প্রতিটি ডিজিট নির্দিষ্ট ৪-বিট বাইনারি কোড দিয়ে এনকোড থাকে।

BCD ব্যবহারের ক্ষেত্র (Real-life Applications)

1. ক্যালকুলেটরঃ দশমিক গণনা = মানুষের উপযোগী → তাই BCD।

2. ডিজিটাল ঘড়ি ও Timerঃ সময়: 12:45 → সরাসরি প্রতিটি ডিজিট প্রদর্শন।

3. সেভেন সেগমেন্ট ডিসপ্লেঃ BCD → 7-segment decoder (IC 7447)

4. ফিনান্সিয়াল অ্যাপ্লিকেশনঃ Decimal precision খুব গুরুত্বপূর্ণ (Banking, POS Machine)

5. মাইক্রোকন্ট্রোলারঃ 8051, AVR, PIC, ARM-এ BCD Instruction বিদ্যমান।

6. ইলেকট্রনিক মিটারঃ (বিদ্যুৎ মিটার, গ্যাস মিটার)

7. এলিভেটর ডিসপ্লেঃ Floor number প্রদর্শনে BCD বহুল ব্যবহৃত।

BCD Encoded Display System – কিভাবে কাজ করে?

একটি সাধারণ Display System এর প্রক্রিয়াঃ

  1. সেন্সর/মাইক্রোকন্ট্রোলার → Decimal Value তৈরি করে

  2. এই Decimal → BCD তে রূপান্তর

  3. BCD → 7-Segment Decoder

  4. Decoder → LED Segment

উদাহরণ IC: 7447 / 4511 BCD-to-7 segment decoder

BCD এবং হেক্সাডেসিমেল (Hexadecimal) এর তুলনা

বিষয়BCDHexadecimal
Base1016
রূপান্তরসহজজটিল
Displayমানুষের জন্য উপযোগীটেকনিক্যাল কাজে উপযোগী
ব্যবহৃত হয়ক্যালকুলেটর, ডিসপ্লেMemory address, Color coding

কেন BCD আজও ব্যবহৃত হচ্ছে?

যদিও কম্পিউটার পুরোপুরি বাইনারিতে কাজ করে, তবুওঃ

১. Display সিস্টেম
২. Embedded ডিভাইস
৩. Financial computing
৪. Human-readable ডেটা প্রসেসিং

এই সব ক্ষেত্রে BCD এখনো অপরিহার্য। বর্তমানে IoT, Microcontroller, FPGA, CNC Machine সব জায়গায় BCD এর ব্যবহার দেখা যায়।

উপসংহার

বাইনারি কোডেড ডেসিমেল (BCD) হলো একটি কার্যকরী, মানুষের জন্য উপযোগী কোডিং সিস্টেম, যা দশমিক সংখ্যাকে বাইনারি কোডে এমনভাবে প্রকাশ করে যাতে প্রদর্শন ও গণনা সহজ হয়। যদিও এটি pure binary-এর তুলনায় বেশি মেমরি নেয় এবং গাণিতিক প্রক্রিয়া তুলনামূলক ধীর, তবুও ক্যালকুলেটর, ডিজিটাল ঘড়ি, সেভেন-সেগমেন্ট ডিসপ্লে, ফিনান্সিয়াল সিস্টেম, IoT ডিভাইস সব জায়গায় BCD এক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি হিসেবে টিকে আছে।

BCD এর মাধ্যমে decimal সংখ্যাকে machine এবং human উভয়ের জন্য পাঠযোগ্য রূপে রাখা যায়। এটাই এর মূল শক্তি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন