নবুয়তের সত্যতায় ইয়াহুদিদের কথোপকথন সম্পর্কে জানতে চান? নবুয়তের সত্যতায় ইয়াহুদিদের কথোপকথন এ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আগমন ছিল এমন এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যার জন্য যুগ যুগ ধরে মানুষ অপেক্ষা করছিল বিশেষ করে ইয়াহুদিরা। তারা নিজেদের ধর্মগ্রন্থে বারবার সেই প্রেরিত নবির আগমনের ভবিষ্যদ্বাণী পড়েছে, চিনেছে তাঁর গুণাবলি।
এমনকি যেসব স্থানে তিনি আগমন করবেন, তাও জানতো। কিন্তু যখন সেই প্রতীক্ষিত নবির আগমন বাস্তব রূপ নিল এবং তিনি আরব জাতির একজন হিসেবে আবির্ভূত হলেন, তখন তাদের ঈর্ষা ও অহংকার তাদের বিশ্বাস গ্রহণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আজকের আর্টিকেল এ নবুয়তের সত্যতায় ইয়াহুদিদের কথোপকথন জানতে পারবেন।
এর বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায় উম্মুল মুমিনিন হজরত সাফিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহার ঘটনা থেকে। তিনি ছিলেন এক প্রখ্যাত ইয়াহুদি আলেমের কন্যা এবং আরেক আলেমের ভাতিজি। তিনি নিজ কানে শুনেছেন, কিভাবে তাঁর পিতা ও চাচা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তাঁকে আল্লাহর নবী হিসেবে চিনে ফেলার পরও শুধুমাত্র জাতিগত অহংকার ও আত্মগর্বের কারণে তাঁর বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা স্পষ্ট বলেছিল যে "হ্যাঁ, তিনিই সেই নবী, কিন্তু আমরা তাঁর অনুসারী হবো না। যতক্ষণ প্রাণ আছে, তাঁর সাফল্য ঠেকাবো।"
নবুয়তের সত্যতায় ইয়াহুদিদের কথোপকথন সম্পর্কে ইমাম রাজি (রহ.) এ প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা করেছেন, ইয়াহুদিরা নবুয়তের বিষয়টি তাদের জাতিগত অধিকারের অংশ মনে করত। তাই একজন আরবের মাঝে নবুয়তের বাস্তবতা দেখে তারা হিংসা, গোঁড়ামি ও গর্বের বশবর্তী হয়ে সঠিক পথ পরিত্যাগ করে। নবুয়তের সত্যতায় ইয়াহুদিদের কথোপকথন সম্পর্কে প্রত্যেক মুসলমানের জানা দরকার।
নবুয়তের সত্যতায় ইয়াহুদিদের কথোপকথন এই ঘটনা আমাদের জন্য একটি বড় শিক্ষা সত্যকে চিনেও যদি অহংকার ও গোঁড়ামির কারণে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়, তবে মানুষ চরম ক্ষতির শিকার হয়। তাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের অন্তরকে অহংকার, গোঁড়ামি ও হিংসা থেকে মুক্ত রাখেন এবং সত্য গ্রহণে আমাদের মন উদার করে দেন। ইসলামের শিক্ষা যেন জাতি, গোষ্ঠী ও মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে বাস্তবায়িত হয়, এই দোয়া করি।
আমিন।