যে কাজে আগের ছোট-বড় গোনাহ ক্ষমা করেন আল্লাহ

আপনি কি যে কাজে আগের ছোট-বড় গোনাহ ক্ষমা করেন আল্লাহ তা জানতে চান? যে কাজে আগের ছোট-বড় গোনাহ ক্ষমা করেন আল্লাহ। আল্লাহর অশেষ রহমত ও করুণার অন্যতম দিক হলো তিনি কিছু বিশেষ আমলের মাধ্যমে বান্দার অতীত জীবনের সকল গোনাহ, হোক তা ছোট কিংবা বড়, সম্পূর্ণরূপে ক্ষমা করে দেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আমল এমন রয়েছে। যেগুলোর মাধ্যমে পুরোনো পাপরাশি একেবারে মুছে যায়। তা হলো: আন্তরিকভাবে ইসলাম গ্রহণ, একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হিজরত করা, এবং বিধান মোতাবেক হজ আদায় করা। কুরআনুল কারিম এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সহিহ হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, যে ব্যক্তি এসব আমল করে, আল্লাহ তাআলা তার অতীতের সব গোনাহ মাফ করে দেন।

আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন। যদি কোনো কাফের ব্যক্তি কুফরি থেকে ফিরে আসে, তবে অতীতে যা কিছু করেছে, তা ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (সুরা আনফাল: ৩৮)। আল্লাহর এই করুণা সীমাহীন এবং এর বাস্তব উদাহরণ আমরা হাদিসে পাই। হজরত আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত একটি সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন, যখন কোনো ব্যক্তি উত্তমভাবে ইসলাম গ্রহণ করে, আল্লাহ তার অতীতের সব গোনাহ মাফ করে দেন।

এরপর তার আমলনামায় শুরু হয় প্রতিদানের হিসাব। একটি ভালো কাজের বিনিময়ে আল্লাহ দেন দশ গুণ থেকে শুরু করে সাতশ গুণ পর্যন্ত সওয়াব, আর একটি খারাপ কাজের জন্য লেখা হয় কেবল একটি গোনাহ, তাও যদি আল্লাহ মাফ না করে দেন। এই দয়া ও ক্ষমার অসাধারণ নজির দেখা যায় হজরত আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর জীবনে। ইসলাম গ্রহণের সময় তিনি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কাছে শর্ত রেখেছিলেন, যেন তার অতীতের সব গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। জবাবে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে আশ্বস্ত করেন।

ইসলাম গ্রহণ, হিজরত করা ও হজ আদায় এই তিনটি আমল পূর্বের সব গোনাহ ধুয়ে মুছে দেয়। ইমাম নববী (রহ.) এ প্রসঙ্গে বলেন, হজরত আমরের হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, ইসলাম গ্রহণ, হিজরত এবং হজের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার অতীত জীবনের সব পাপ-মোচন করে দেন, তা যত বড়ই হোক না কেন। সুতরাং, আল্লাহর দরবারে ফিরে আসাই হলো মুক্তির পথ। তিনি সেই পরম দয়ালু, যিনি বান্দার একটি খাঁটি তাওবার বিনিময়ে তার গোনাহর পাহাড়সমান বোঝাও ক্ষমা করে দিতে প্রস্তুত।

যেন সে নতুন জীবনের শুভ সূচনা করছে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অসীম দয়ার নিদর্শন, যা মানুষকে সংশোধনের সুযোগ দেয় এবং আশার দ্বার খুলে দেয় প্রতিটি তাওবাকারীর জন্য। আল্লাহ আমাদের সবাইকে শিরক ও কুফরি থেকে ফিরে আসার তাওফিক দিন, হাদিস অনুযায়ী জীবন গড়ার তাওফিক দিন, এবং পরিপূর্ণ ইসলামী জীবনের পথে পরিচালিত করুন। আমিন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন