কঠিন বিপদ ও ক্রান্তিলগ্নে যে দোয়া পড়বেন মুমিন ব্যক্তিগণ তা জানতে চান? কঠিন বিপদ ও ক্রান্তিলগ্নে যে দোয়া পড়বেন মুমিন ব্যক্তিগণ এ সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে অনেক বক্তব্য আছে। মানবজীবনে কখন কী ধরনের বিপদ নেমে আসবে, তা কেউই পূর্বানুমান করতে পারে না। কখনো হঠাৎ এক দুঃসংবাদ, আবার কখনো দীর্ঘমেয়াদি কষ্টে জর্জরিত হয় জীবন।
এসব কঠিন মুহূর্তে একজন মুমিনের প্রথম করণীয় হলো নিজেকে আল্লাহর হাতে সোপর্দ করা এবং তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা। কারণ, বিপদ যত বড়ই হোক না কেন, আল্লাহর রহমত তারচেয়ে অনেক বড়। পবিত্র কুরআন আমাদের শিক্ষা দেয়, সংকটে পড়ে দোয়া করার মাঝে রয়েছে মুক্তির পথ। হজরত ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) যেমন দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর অভিভাবকত্ব স্বীকার করে তাঁর সাহায্য চেয়েছিলেন।
পোস্ট সূচিপত্র
কঠিন বিপদ ও ক্রান্তিলগ্নে যে দোয়া পড়বেন মুমিন ব্যক্তিগণ
জীবনের প্রতিটি মোড়ে মানুষকে নানা ধরণের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কখনো নিঃস্ব হওয়ার বেদনায়, কখনো আপনজনের বিচ্ছেদে, আবার কখনো অর্থনৈতিক দুরবস্থা বা আকস্মিক বিপদের আঁধারে। এইসব কঠিন বাস্তবতায় একজন মুমিনের একমাত্র আশ্রয়স্থল হলো মহান আল্লাহ তাআলা। কারণ, তিনিই সৃষ্টিজগতের সর্বশক্তিমান পরিচালক ও বান্দার অভিভাবক। একজন ঈমানদার ব্যক্তি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে যে কোনো বিপদই আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে নয়, এবং সেই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার চাবিকাঠিও কেবল তাঁরই হাতে।
তাই দুঃসময়ে মানুষ, সম্পদ বা পদমর্যাদার দিকে না তাকিয়ে একজন মুমিন সরাসরি আল্লাহর সাহায্যের দিকেই ফিরে যায়। এটাই ইসলামের শিক্ষা।যা আমাদের শিখিয়েছে কুরআনের আয়াত ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ। ঠিক তেমনি প্রত্যেক মুমিনের উচিত দুঃসময়ে সেই দোয়াকে হৃদয়ে ধারণ করে তা আল্লাহর দরবারে তুলে ধরা। কেননা, একজন মুমিন জানে আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো বিপদ থেকেই মুক্তি নেই।
হজরত ইউসুফ (আ.) এর দোয়াঃ কঠিন সময়ের অনুপম দৃষ্টান্ত
কুরআনে বর্ণিত এক মহান নবী হজরত ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)। তিনি জীবনে এমন সব কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন, যা কল্পনাকেও হার মানায়। ভাইদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে কূপে নিক্ষিপ্ত হওয়া, দাস হিসেবে বিক্রি হওয়া, অন্যায়ভাবে কারা বরণ। এই সবই ছিল তাঁর জীবনের পরীক্ষা। কিন্তু তিনি কখনো আল্লাহর উপর ভরসা হারাননি।
সব পরীক্ষার শেষে যখন তিনি সম্মান ও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হন, তখন আল্লাহর কাছে এই অনুপম দোয়া করেনঃ
أَنْتَ وَلِيِّ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ ۖ تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ
উচ্চারণ: আন্তা ওয়ালিয়্যি ফিদ্-দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ, তাওয়াফ্ফানী মুসলিমান, ওয়া আলহিক্বনী বিস্-সালিহীন।
(সূরা ইউসুফ: আয়াত ১০১)
অর্থঃ
“হে আল্লাহ! আপনি দুনিয়া ও আখিরাতে আমার অভিভাবক। আপনি আমাকে মুসলিম অবস্থায় মৃত্যু দিন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের সাথে মিলিত করুন।”
এই দোয়া কেবল হজরত ইউসুফ (আ.) এর নয়, বরং তা প্রতিটি মুমিনের অন্তরের আকুতি হয়ে উঠতে পারে। যখন জীবনে কোনো দিকেই যেন আলো নেই, চারপাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন, তখন এই দোয়াটি একজন মুমিনের জন্য হতে পারে শান্তির সঞ্চারকারী।
কেন এই দোয়া?
দোয়া পড়ার সময় ও উপলক্ষ
এই দোয়াটি আপনি পড়তে পারেনঃ
বিপদের সময়
রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে
মানসিক অস্থিরতা বা হতাশার সময়
মৃত্যুর স্মরণে
প্রতিদিন সকালে বা রাতে ইবাদতের সময়
অন্যান্য উপকারী দোয়া কঠিন সময়ের জন্য
মুমিনদের জন্য কুরআন ও হাদিসে আরও কিছু দোয়া এসেছে, যেগুলো বিপদের সময় পড়ে মহান আল্লাহর সাহায্য লাভ করা যায়। যেমনঃ
১. لا إلهَ إلاّ أنتَ سُبْحانَكَ إنِّي كُنتُ مِنَ الظّالِمينَ
উচ্চারণঃ লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ্জালিমীনঅর্থঃ “আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আপনি পবিত্র, নিশ্চয়ই আমি অন্যায়কারীদের একজন ছিলাম।”
👉 হজরত ইউনুস (আ.) এর দোয়া (সূরা আম্বিয়া : ৮৭)
২. حسبنا الله ونعم الوكيل
উচ্চারণঃ হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি'মাল ওকিলঅর্থঃ “আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট, তিনিই উত্তম কর্মবিধানকারী।”
👉 বিপদের সময় সাহাবারা এ দোয়া পড়তেন (সূরা আল ইমরান: ১৭৩)
উপসংহার
জীবনে কঠিন সময় আসবেই এটাই এই দুনিয়ার নিয়ম এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। তবে একজন প্রকৃত মুমিন তখনই চিনে নেওয়া যায়, যখন সে সংকটের মুহূর্তে হতাশ না হয়ে আরও দৃঢ় বিশ্বাসে আল্লাহর দিকে ফিরে যায়। বিপদের ভারে ভেঙে না পড়ে সে সবর করে, আর হৃদয়ের গভীর থেকে দোয়া করে আল্লাহর সাহায্য কামনা করে। হজরত ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) এর দোয়া আমাদের শিক্ষা দেয়। বিশ্বাস, ধৈর্য এবং আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থার সঙ্গে কীভাবে তাঁর দয়ার দরজায় আঘাত করতে হয়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সেই অন্তর দিয়ে দোয়া করার যোগ্যতা দান করুন এবং জীবনের প্রতিটি সঙ্কটময় মুহূর্তে আমাদের জন্য সহজতা ও সাহায্য প্রদান করুন। আমিন।